বদলে যাচ্ছে খাদ্যাভ্যাস

>> ভাত-রুটি কম খেয়ে অন্য খাবারে ঝোঁক 
>> আর্থিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রতিফলন
>> ৬ বছরে ডিম খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণ

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ বলে একটি প্রবাদ আছে। আবহমান কাল ধরে বাঙালিরা প্রধান খাদ্য হিসেবে ভাতকেই গ্রহণ করে আসছে। এখন এই ধারা বদলাতে শুরু করেছে। ভাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অন্য খাবারের প্রতি ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাতের পরিবর্তে খাদ্য-তালিকায় অন্য খাবার যোগ করার কিছু কারণ আছে। প্রথমত, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এখন মানুষ অন্যান্য খাবারের প্রতি ঝুঁকছে। সেইসঙ্গে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। এ কারণে তাদের মধ্যে রুচিবোধেরও পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তন প্রভাব ফেলছে স্বাস্থ্য সচেতনতায়। অপরদিকে, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে খাদ্যাভাস পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানার আয়-ব্যয় জরিপ- ২০১৬ এর প্রতিবেদন অনুসারে, ছয় বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ এখন ভাত কম খাচ্ছে। বাড়িয়েছে ডাল, শাক-সবজি, মাংস ও ডিম খাওয়া। ভাতের সঙ্গে আটা খাওয়ার হারও কিছুটা কমেছে। ছয় বছরে দ্বিগুণ হয়েছে ডিম খাওয়ার হার।

ভোগ, পুষ্টিমান, জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য উঠে আসা এই জরিপের রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০ সালে যেখানে একজন মানুষ দৈনিক ৪১৬ দশমিক শূন্য ১ গ্রাম চালের ভাত খেতেন, সেখানে এখন খাচ্ছেন ৩৬৭ দশমিক ১৯ গ্রাম। ফলে ছয় বছরের ব্যবধানে একজন ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমিয়েছেন দৈনিক ৪৬ দশমিক ৮২ গ্রাম।

বাংলাদেশে জনপ্রতি বার্ষিক দশমিক সাত ভাগ হারে চালের ব্যবহার কমছে। ১৯৭৭ সালে জনপ্রতি বার্ষিক চাল ভোগের পরিমাণ ছিল ১৭৯ কেজি। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫০ কেজি। আগামী ২০২১ ও ২০৩১ সালে দেশে জনপ্রতি বার্ষিক চাল ভোগের পরিমাণ কমে যথাক্রমে ১৪৬ দশমিক ৬ ও ১৪০ কেজিতে দাঁড়াবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, এটা একটি ভালো দিক। মানুষ স্বাস্থ্যসচেতন হচ্ছে। পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অন্যান্য খাবারের দিকেও ঝুঁকছে। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও সবজি বেশি খাচ্ছে। এটা ভালো।

তিনি বলেন, ‘মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। বেশি দামের খাবার কেনার প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে। এটা সত্য যে, মানুষের আর্থিক সক্ষমতা যখন বাড়বে, তখন তাদের রুচিরও পরিবর্তন হবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বিষয়ে সম্প্রতি জানান, মানুষ ভাত কম খাচ্ছে। ভাতের বদলে শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি খাচ্ছে- এটা ভালো দিক। শাক-সবজি বেশি খেলে মানুষের আয়ু অনেক বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতার মধ্যে এটি অন্যতম। আমরা বলতে পারি, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে আর কোনো দরিদ্র মানুষ থাকবে না।