কোরআন তেলাওয়াতে শুরু হল নিউজিল্যান্ডের সংসদ অধিবেশন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।  নিহতদের স্মরণে ও দেশটির মুসলিম নাগরিকদের সম্মানে স্পিকারকে সালাম জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডের্ন। পার্লামেন্টে নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।  রক্তাক্ত এই হামলার পর মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দেশটির পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়।
পার্লামেন্টে বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা স্পিকারকে সম্বোধন করে বলেন, মিস্টার স্পিকার, আসসালামু আলাইকুম।  পরে ইংরেজিতে বলেন, পিস বি আপন উইথ ইউ (আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)।
তিনি বলেন, আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মোহাম্মদ নবীকে, যিনি মসজিদের দরজা খুলেই হামলাকারীকে উষ্ণ সম্ভাবনা জানিয়ে বলেন ‘হ্যালো ব্রাদার। হামলাকারী নিউজিল্যান্ডে কুখ্যাতি চেয়েছিলেন, কিন্তু আমরা তার নামও নিবো না। কথা দিচ্ছি শিগগিরই এর উপযুক্ত বিচার হবে।
পার্লামেন্টের ওই অধিবেশনে তিনি হতাহতদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীকে প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সাহসী নাইম রশিদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নাইমসহ নয় পাক নাগরিক নিহত হন। সংসদের অধিবেশনে জাসিন্ডা বলেন, হতাহতদের পরিবার বিচার পাবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঘৃণ্য ওই হামলাকারীর নাম কখনই মুখে নেবেন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হামলাকারী অনেক কিছু করতে চেয়েছিল; কিন্তু কুখ্যাতি ছাড়া সে কিছুই পায়নি। যে কারণে আপনি আমার মুখে কখনই তার নাম শুনতে পাবেন না।
শুক্রবারের ওই হামলায় বাংলাদেশ, ভারত, তুরস্ক, কুয়েত, সোমালিয়া এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকরা নিহত হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কমপক্ষে ৪৯ জন। এদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।